ভারতে মরণব্যাধি ক্যান্সারের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। এই রোগের চিকিৎসা যেমন অত্যন্ত ব্যয়বহুল, তেমনি আক্রান্ত ব্যক্তির নিয়মিত আয়ের পথও অনেক সময় বন্ধ হয়ে যায়। এই দ্বিমুখী সংকট কাটিয়ে পরিবারগুলোকে একটি মজবুত সুরক্ষাকবচ দিতে দুটি নতুন বীমা পলিসি নিয়ে এসেছে টাটা এআইএ লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ‘সম্পূর্ণ কেয়ার – ক্যান্সার’ এবং ‘সম্পূর্ণ কেয়ার – ক্যান্সার ফান্ড’ নামের এই নতুন পরিকল্পনা দুটি মূলত ক্যান্সারের চিকিৎসা খরচ মেটানোর পাশাপাশি আক্রান্তদের নিয়মিত আয়ের অভাব পূরণের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থার দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, ভারতে প্রতি বছর ১৫ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই নতুন এই আর্থিক পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
এককালীন অর্থের চেয়ে মাসিক আয়ে বেশি ভরসা গ্রাহকদের
নতুন এই বীমা সেবা চালু করার আগে টাটা এআইএ গ্রাহকদের চাহিদার ওপর একটি বিস্তারিত জরিপ চালায়। সেই জরিপে উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য, যা সাধারণ মানুষের আর্থিক সুরক্ষার পরিবর্তিত মানসিকতাকে স্পষ্ট করে তোলে।
জরিপে অংশ নেওয়া ৪৮ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের ক্ষেত্রে তারা এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ বা ল্যাম্পসাম পাওয়ার চেয়ে নিয়মিত আয়ের উৎস হিসেবে টাকা ফেরত পেতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এই নির্দিষ্ট দলটির মধ্যে ৪৭ শতাংশ গ্রাহক মাসিক কিস্তিতে টাকা পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, আর বাকি ৪ শতাংশ বার্ষিক ভিত্তিতে এই অর্থ নিতে চান।
টাকা কত দিন ধরে পাওয়া যাবে, তা নিয়েও মানুষের সুনির্দিষ্ট মতামত রয়েছে। জরিপভুক্ত ৭৬ শতাংশ মানুষ চান এই আর্থিক সহায়তা যেন কয়েক বছর ধরে চালু থাকে। এর মধ্যে ৪২ শতাংশ গ্রাহক দুই বছরের জন্য এবং ৩৪ শতাংশ গ্রাহক পাঁচ বছর মেয়াদী নিয়মিত সহায়তা পাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
संपूर्ण কেয়ার পলিসির মূল সুবিধাগুলো
টাটা এআইএ-র মূল পলিসি ‘সম্পূর্ণ কেয়ার – ক্যান্সার’-এর অধীনে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ রুপি বা প্রায় ৫৩,০০০ ডলার পর্যন্ত বীমা সুবিধা বা কাভারেজ পাওয়া যাবে। গ্রাহকেরা তাদের সুবিধা ও প্রয়োজন অনুযায়ী এই টাকা তিনভাবে তুলে নিতে পারবেন। চাইলে পুরো টাকা একসঙ্গে তুলে নেওয়া যাবে, অথবা প্রতি মাসে নির্দিষ্ট আয়ের মতো করে নেওয়া যাবে। আবার কেউ চাইলে শুরুতেই কিছু টাকা এককালীন নিয়ে বাকি অংশ পরবর্তী পাঁচ বছর পর্যন্ত প্রতি মাসের কিস্তিতেও রূপান্তর করতে পারবেন।
এই পলিসির বড় একটি সুবিধা হলো এর প্রিমিয়ামের হারের দীর্ঘমেয়াদী নিশ্চয়তা। গ্রাহকেরা টানা ৩০ বছরের জন্য একই প্রিমিয়াম রেটের গ্যারান্টি পাবেন, অর্থাৎ এই দীর্ঘ সময়ে প্রিমিয়ামের খরচ একটুও বাড়বে না। এছাড়া রোগের একদম শুরুর ধাপে স্ক্রিনিং বা স্বাস্থ্য পরীক্ষার খরচ মেটাতে এতে রয়েছে একটি বিশেষ ‘ডায়াগনস্টিক বেনিফিট’।
বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেকেই দেশের বাইরে যান। সেই চাহিদার কথা বিবেচনা করে এতে একটি ‘ওভারসিজ ট্রিটমেন্ট বুস্টার’ রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের বাইরে চিকিৎসা করালে মূল বীমা অঙ্কের ওপর অতিরিক্ত আরও ১০ শতাংশ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে।
গ্রাহক জরিপ ও পলিসির গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান
টাটা এআইএ-র গবেষণা এবং নতুন পলিসির চমৎকার ফিচারগুলো একনজরে নিচে একটি তালিকার মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক | গ্রাহক পছন্দ ও পলিসির মূল উপাদান | পরিসংখ্যান / শতকরা হার |
| ১ | ভারতে প্রতি বছর নতুন করে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা | ১৫ লাখ ৭০ হাজারের বেশি |
| ২ | দীর্ঘ মেয়াদে (কয়েক বছর) আর্থিক সহায়তা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা | ৭৬% গ্রাহক |
| ৩ | এককালীন টাকার বদলে নিয়মিত আয়ের ধারায় টাকা পাওয়ার ইচ্ছা | ৪৮% গ্রাহক |
| ৪ | নিয়মিত আয়ের আওতায় প্রতি মাসে টাকা পাওয়ার বিকল্প পছন্দ | ৪৭% গ্রাহক |
| ৫ | দুই বছর মেয়াদে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার ইচ্ছা | ৪২% গ্রাহক |
| ৬ | Robotপাঁচ বছর মেয়াদে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার ইচ্ছা | ৩৪% গ্রাহক |
| ৪ | নিয়মিত আয়ের আওতায় প্রতি বছর টাকা পাওয়ার বিকল্প পছন্দ | ৪% গ্রাহক |
| ৮ | ‘সম্পূর্ণ কেয়ার – ক্যান্সার’ পলিসির সর্বোচ্চ কাভারেজ সীমা | ৫০ লাখ রুপি ($৫৩,০০০) |
| ৯ | প্রিমিয়ামের হার অপরিবর্তিত থাকার গ্যারান্টি বা মেয়াদ | ৩০ বছর |
| ১০ | দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা (বুস্টার) | মূল বীমা অঙ্কের অতিরিক্ত ১০% |
