আকাশছোঁয়া ব্যয়ের চাপ: স্বাস্থ্যে ও সঞ্চয়ে কাটছাঁট করছেন অস্ট্রেলিয়ার তরুণরা

অর্থনৈতিক মন্দা আর লাগামহীন মূল্যস্ফীতির সাড়াশিতে পড়ে রীতিমতো দিশেহারা অস্ট্রেলিয়ার তরুণ প্রজন্ম। জেনারেশন জেড ও মিলেনিয়াল—এই দুই প্রজন্মের বিশাল একটি অংশ এখন জীবনযাত্রার খরচের হিসাব মেলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, চিকিৎসকের কাছে যাওয়া কিংবা ভবিষ্যতের জন্য টাকা জমানোর মতো মৌলিক ও জরুরি পরিকল্পনাগুলো তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য তুলে রাখছেন। এই ঘাটতি পূরণে কেউ ঝুঁকছেন চড়া সুদের ঋণের দিকে, আবার কেউ নিজের শরীরকে বাড়তি খাটিয়ে বেছে নিচ্ছেন পার্ট-টাইম কাজ বা সাইড হাসল। অস্ট্রেলিয়ার নামী বিমা সংস্থা ‘আইএজি’ (IAG) পরিচালিত দেশব্যাপী এক সমীক্ষায় তরুণদের এই চরম আর্থিক টানাপোড়েনের চিত্রটি প্রকাশ্যে এসেছে।

সংস্থার প্রথম ‘আইএজি রেজিলিয়েন্ট ফিউচারস রিপোর্ট’ এবং ‘আইএজি রিস্ক ইনডেক্স’-এর অংশ হিসেবে দেশজুড়ে ২,৪০০ জন নাগরিকের ওপর এই জরিপ চালানো হয়। যেখানে উঠে এসেছে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিকূলতা জয় করার সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসের নানা দিক।

গবেষণার তথ্য বলছে, বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তরুণরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। সমীক্ষায় বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষের অর্থনৈতিক সংকট ও মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার যে তুলনামূলক চিত্র উঠে এসেছে, তা নিচে দেওয়া হলো:

প্রজন্মভিত্তিক আর্থিক সংকট ও মানসিক দৃষ্টিভঙ্গির তুলনা

বিষয়ের বিবরণজেনারেশন জেড (Gen Z)মিলেনিয়ালস (Millennials)বেবি বুমার্স (Baby Boomers)
চিকিৎসা সেবার অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিততথ্য উপলব্ধ নয়৪৭.৭ শতাংশতথ্য উপলব্ধ নয়
খরচ মেটাতে ঋণের ওপর নির্ভরশীলতাতথ্য উপলব্ধ নয়৪৫.৫ শতাংশতথ্য উপলব্ধ নয়
অতিরিক্ত কাজ বা সাইড হাসল গ্রহণ৬০.৫ শতাংশতথ্য উপলব্ধ নয়তথ্য উপলব্ধ নয়
ভবিষ্যতের প্রতি আশাবাদ বা ইতিবাচকতাউচ্চ মাত্রার আশাবাদউচ্চ মাত্রার আশাবাদ৪৬.১ শতাংশ (জাতীয় গড় ৫৬.৭%)
আর্থিক নিরাপত্তা বলয় (Financial Buffer)বেশ দুর্বল বা কমবেশ দুর্বল বা কমতুলনামূলক মজবুত ও সুরক্ষিত
ঝুঁকি মোকাবিলায় সুরক্ষামূলক প্রস্তুতিঅপর্যাপ্তঅপর্যাপ্ততুলনামূলকভাবে অনেক ভালো

জরিপের এই উপাত্তগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পকেটের টান সামলাতে মিলেনিয়ালদের প্রায় অর্ধেক (৪৭.৭%) তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করছেন। শুধু তাই নয়, এই তরুণদের ৪৫.৫ শতাংশই দৈনন্দিন খরচ চালাতে গিয়ে নিয়মিত ঋণের জালে জড়াচ্ছেন। অন্যদিকে, জেনারেশন জেডের চিত্রটি আরও ভিন্ন। এই প্রজন্মের অর্ধেকেরও বেশি (৬০.৫%) তরুণ নিজেদের মূল আয়ের বাইরেও ওভারটাইম বা অন্য কোনো খণ্ডকালীন কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, বয়োজ্যেষ্ঠ বা ‘বেবি বুমার্স’ প্রজন্মের প্রবীণরা ভবিষ্যতের ব্যাপারে তরুণদের মতো অতটা আশাবাদী (৪৬.১ শতাংশ) না হলেও, তাদের একটি শক্ত আর্থিক নিরাপত্তা বলয় রয়েছে। ফলে যেকোনো আকস্মিক আর্থিক ধাক্কা বা দুর্যোগ সামলানোর ক্ষেত্রে প্রবীণরা তরুণদের চেয়ে অনেক বেশি নিশ্চিন্ত ও সুরক্ষিত অবস্থানে আছেন।

প্রতিবেদনে আরও প্রকাশ করা হয়েছে যে, গত এক বছরে অস্ট্রেলিয়ার ৬৭ শতাংশ সাধারণ ক্রেতা এবং ৬৪ শতাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত (SME) কোনো না কোনো বড় ধরনের অর্থনৈতিক স্থবিরতার মুখে পড়েছেন। তবে এত নেতিবাচক খবরের মধ্যেও আশার কথা হলো, শত সংকটেও তরুণদের মানসিক দৃঢ়তা কমেনি। সমস্ত চাপ সামলেও ৫৮ শতাংশ সাধারণ ভোক্তা এবং ৭২ শতাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে যথেষ্ট ইতিবাচক মনোভাব রাখছেন।

আইএজি-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও নিক হকিন্স মনে করেন, বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি, যুদ্ধবিগ্রহ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির অস্থিরতা সাধারণ মানুষের গৃহস্থালি বাজেটের ওপর তীব্র চাপ তৈরি করেছে। এর ফলে মানুষের দৈনন্দিন খরচ করার ক্ষমতা যেমন কমছে, তেমনি তাদের পুরনো জমানো অর্থও দ্রুত শেষ হয়ে আসছে।

সবশেষে ব্যবসায়িক খাতের পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু মুদ্রাস্ফীতিই নয়, চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনও এখন ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ। গত ১২ মাসে জলবায়ুজনিত নানা দুর্যোগের কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দেশের ৪৮ শতাংশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। অথচ এত বড় ঝুঁকির মধ্যেও ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা রক্ষা করার পরিকল্পনা (Business Continuity Planning) কিংবা নিয়মিত বিমা পলিসি হালনাগাদ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষামূলক পদক্ষেপে ব্যবসায়ীদের এখনও বড় ধরনের খামতি ও

মন্তব্য করুন