দুবাইগামীদের জন্য বিমা আনছে এমিরেটস

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতজনিত ভ্রমণ সতর্কতার প্রেক্ষাপটে সৃষ্টি হওয়া বিমা কাভারেজের ঘাটতি পূরণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে এমিরেটস। দুবাইগামী বা দুবাই হয়ে যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ ভ্রমণ বিমা পণ্য চালুর লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন বিমা কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।

১১ জুন প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এমিরেটসের প্রেসিডেন্ট টিম ক্লার্ক এই উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রস্তাবিত বিমা পণ্যটি “যৌক্তিক মূল্যে” নির্ধারণ করা হবে এবং যাত্রীরা বিদেশে আটকে পড়লে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার নিশ্চয়তা দেবে। এই সুবিধা এমিরেটস বা অন্য কোনো এয়ারলাইনের মাধ্যমে ফিরলেও প্রযোজ্য হবে।

বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত শুরুর তিন মাসেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো বেশ কয়েকটি দেশ উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য ‘নো-ফ্লাই’ বা ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করার নির্দেশনা বজায় রেখেছে। এর ফলে নতুন করে বুকিং করা যাত্রীদের ক্ষেত্রে প্রচলিত ভ্রমণ বিমা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ছে, কারণ সরকারি সতর্কতা জারি হলে বেশিরভাগ বিমা নীতিতে যুদ্ধ ও সংঘাতজনিত ঝুঁকি বাদ দেওয়া হয়।

যদিও উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণের জন্য বিশেষ বিমা কাভারেজ এখনো পাওয়া যাচ্ছে, তবে সেগুলোর প্রিমিয়াম তুলনামূলকভাবে বেশি এবং শর্ত কঠোর। ফলে অনেক যাত্রী দাবি করার সময় বুঝতে পারেন যে তাদের কাভারেজ সীমিত, যা ভোক্তা সুরক্ষায় একটি ঘাটতি তৈরি করেছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেও দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন প্রায় ৪০,০০০ যাত্রী ট্রানজিট করছেন। সংঘাত শুরুর আগে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১,০০,০০০। তবে যাত্রীসংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে জানা গেছে। ক্লার্ক উল্লেখ করেন, লন্ডন থেকে আসা কিছু ফ্লাইটে আসনসংখ্যা পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে, যদিও যাত্রীদের জন্য প্রচলিত বিমা সুবিধা সীমিত।

এদিকে যুদ্ধঝুঁকি কাভারেজের ক্ষেত্রে এমিরেটস নিজস্ব বিমা ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তাদের পুরো বহরের জন্য প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১ লাখ মার্কিন ডলার অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দিতে হচ্ছে। এক বিমা নির্বাহী এই হারকে তুলনামূলকভাবে কম বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারলাইনগুলোকে উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতি ফ্লাইট অবতরণের জন্য ৭০,০০০ থেকে ১,৫০,০০০ ডলার পর্যন্ত প্রিমিয়াম দিতে হচ্ছে।

সংঘাত শুরু হওয়ার চার দিনের মধ্যেই এমিরেটস তাদের ফ্লাইট পুনরায় চালু করে এবং দ্রুত ৪০ শতাংশ সক্ষমতায় ফিরে আসে। ক্লার্কের তথ্য অনুযায়ী, দুবাই প্রায় ৩,০০০ ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্রুজ মিসাইলের মধ্যে ৯৮ শতাংশ প্রতিহত করেছে। বিমান চলাচল নির্দিষ্ট করিডরে পরিচালিত হয়েছে, যা সামরিক বিমানের তত্ত্বাবধানে ছিল।

প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য বিকল্প রুটে যেতে হলে যেন জ্বালানি সংকট না হয়, সে জন্য প্রতিটি ফ্লাইটে অতিরিক্ত পাঁচ ঘণ্টার জ্বালানি বহন করা হচ্ছিল।

নিচে এই উদ্যোগ ও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির মূল তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:

বিষয়তথ্য
উদ্যোগদুবাইগামী যাত্রীদের জন্য নতুন ভ্রমণ বিমা
অংশীদারবিমা কোম্পানিগুলো
ঘোষণার তারিখ১১ জুন
প্রধান সুবিধাবিদেশে আটকে পড়লে দেশে ফেরার নিশ্চয়তা
বর্তমান সমস্যাযুদ্ধজনিত কারণে প্রচলিত বিমা অকার্যকর
বিশেষ বিমাউচ্চ প্রিমিয়াম ও কঠোর শর্ত
দৈনিক ট্রানজিট যাত্রীপ্রায় ৪০,০০০
সংঘাত-পূর্ব সংখ্যাপ্রায় ১,০০,০০০
এমিরেটসের অতিরিক্ত ব্যয়প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১ লাখ ডলার
প্রতিদ্বন্দ্বীদের ব্যয়প্রতি ফ্লাইটে ৭০,০০০–১,৫০,০০০ ডলার

এই উদ্যোগের মাধ্যমে এমিরেটস যাত্রীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে ভ্রমণ বিমার সীমাবদ্ধতা মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।

মন্তব্য করুন