প্রাকৃতিক দুর্যোগের আর্থিক চাপ কমাতে দেশের প্রায় তিন কোটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে সরকারি অর্থায়নে বিশেষ বিমার আওতায় আনার ঐতিহাসিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে থাইল্যান্ড। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট তীব্র বন্যা, ঝড় ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্রমবর্ধমান ব্যয় সরাসরি রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন না করে তা বেসরকারি বিমা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার।
মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ১৫ দশমিক ৫ কোটি বাথ বা আনুমানিক ৪৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের এই বার্ষিক বিমা কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে। সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল। সরকারি প্রাক্কলন অনুযায়ী, থাইল্যান্ডে প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে অন্তত ৩০ বিলিয়ন বাথ বা ৩ হাজার কোটি বাথ খরচ করতে হয় সরকারকে। নতুন এই বিমা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ৭৫ বিলিয়ন বাথের মোট কভারেজ দেওয়া হবে, যার বাকি অংশের ঝুঁকি সামলানোর দায়িত্ব নেবে প্রাইভেট বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো।
নতুন এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রের সরাসরি সহায়তার সীমার বাইরে থাকা বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণের দায়ভার নেবে বিমা কোম্পানিগুলো। এর ফলে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক বিপদের সময় সাধারণ করদাতাদের ওপর আর্থিক চাপ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পাবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পলিসির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বন্যাজনিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ হাজার বাথ এবং ঝড় বা ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ৫ হাজার বাথ পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাবে। দুর্যোগের কবলে পড়ার ১৫ দিনের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধ করা হবে। তবে প্রতিটি পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ বাথ এবং দুর্যোগজনিত প্রতি জন মৃত্যুর ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে ২০ লাখ বাথ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। নগরায়ণের প্রসারের ফলে প্রাকৃতিক বিপদের মুখে থাকা মানুষের সংখ্যাও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার সিংহভাগ অর্থনৈতিক ক্ষতিই এতদিন কোনো বিমার আওতাভুক্ত ছিল না। থাইল্যান্ডের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতাও এর ব্যতিক্রম নয়। গত মাসে দেশটির উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় তিনজনের প্রাণহানির পাশাপাশি প্রায় ২৫ হাজার বাসিন্দা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন। এছাড়া গত নভেম্বরে দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ও পর্যটন কেন্দ্র হাত ইয়াইসহ বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত হয়েছিল দশ লাখেরও বেশি মানুষ।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রশমন বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, অফিস অফ ইন্স্যুরেন্স কমিশন এবং থাই জেনারেল ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এই বিশাল বিমা কর্মসূচিটি প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, এই কৌশলগত পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সুশৃঙ্খল হবে।
