চীন সরকারের অফশোর বা বিদেশি বিনিয়োগ আয়ের ওপর বিদ্যমান কর ব্যবস্থা নিয়ে মূল ভূখণ্ডের (মেইনল্যান্ড) বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বাড়ায় হংকংয়ের ব্যাংকিং ও বীমা খাত স্বল্পমেয়াদী এক মন্দার মুখোমুখি হতে পারে। আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা ‘এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংস’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চীনের বিনিয়োগকারীরা অফশোর বীমা ও আর্থিক পণ্য কেনার ক্ষেত্রে ট্যাক্স বা করের সম্ভাব্য আইনি বাধ্যবাধকতা নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু করায় সার্বিক বিক্রিতে এই সাময়িক স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
‘চায়না’স অফশোর ট্যাক্স: কোর ডিমান্ড কুশনস হংকং ব্যাংকস অ্যান্ড ইন্স্যুরার্স’ শীর্ষক গবেষণাপত্রে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংস পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তুলে ধরে। এতে বলা হয়, বিদেশে বিনিয়োগ করা আয়ের ওপর কর পরিশোধের নিয়মাবলী স্পষ্টভাবে অনুধাবনের কারণে চীনের মূল ভূখণ্ডের গ্রাহকেরা আপাতত হংকংয়ের বাজার থেকে নতুন আর্থিক সেবা বা পণ্য কেনার গতি কিছুটা কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে হংকংয়ের ব্যাংক ও জীবন বীমা খাতের ব্যবসায় সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বিক্রয় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
তবে এই পরিস্থিতি হংকংয়ের আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারকে দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল করবে না বলেই নিশ্চিত করেছে এসঅ্যান্ডপি। সংস্থাটি জানিয়েছে, অফশোর আর্থিক পণ্যের অন্তর্নিহিত ও মৌলিক চাহিদা এতটাই মজবুত যে প্রাথমিক বিক্রি হ্রাসের এই ধাক্কা খুব দ্রুতই কেটে যাবে। আগামী দুই বছরে মেইনল্যান্ড গ্রাহকদের টানা চাহিদার ওপর ভর করেই হংকংয়ের জীবন বীমা খাত বার্ষিক ৮ থেকে ১০ শতাংশ হারে ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিক, চীনে গ্রাহকদের সতর্ক অবস্থানের কারণে হংকংয়ের ব্যাংকগুলোর সার্ভিস ফি বাবদ আয় সাময়িকভাবে কিছুটা কমলেও তা সামলানোর মতো সক্ষমতা ব্যাংকগুলোর রয়েছে। হংকংয়ের ব্যাংকিং খাতের বৈচিত্র্যময় ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ও কৌশলগত পণ্য পরিবর্তনের সুবিধা সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতিকে বেশ ভালোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
সংস্থাটির বিশ্লেষণে স্পষ্ট যে, অফশোর কর ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতনতার ফলে সাময়িকভাবে কেনাবেচার গতি কিছুটা কমলেও হংকংয়ের ব্যাংকিং ও বীমা খাতের মৌলিক ভিত্তিকে দুর্বল করা সম্ভব নয়। কর ব্যবস্থার এই সাময়িক হিসাব-নিকাশ শেষে মূল ভূখণ্ডের চীনাদের বিনিয়োগ বাজারে ফিরে আসার মাধ্যমেই হংকংয়ের অফশোর আর্থিক পণ্যের কেনাবেচা আবার পূর্বের স্বাভাবিক গতি ফিরে পাবে।
