সাধারণ বীমা বাজারকে ছাড়িয়ে শ্রীরাম জেনারেলের প্রিমিয়াম আয় প্রবৃদ্ধি ২৩%

ভারতের অন্যতম প্রধান সাধারণ বীমা প্রতিষ্ঠান শ্রীরাম জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (এসজিআই) ২০২৭ অর্থ বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুন ২০২৬ এ সমাপ্ত) উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করেছে। আলোচ্য প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির মোট অর্জিত প্রিমিয়াম (গ্রস ডাইরেক্ট প্রিমিয়াম) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেড়ে ১,১৮০ কোটি রুপিতে (প্রায় ১১.৮ কোটি ডলার) পৌঁছেছে। গত বছরের একই প্রান্তিকে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৯৬০ কোটি রুপি। তবে প্রিমিয়াম অর্জনে বড় উল্লম্ফন হলেও নিট মুনাফার ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির গতি ছিল কিছুটা ধীর। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে তাদের নিট মুনাফা ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩১ কোটি রুপিতে (১.৩১ কোটি ডলার), যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১২৫ কোটি রুপি।

বীমা খাতের সার্বিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শ্রীরাম জেনারেলের অগ্রগতির হার বাজারের গড় প্রবৃদ্ধির চেয়ে অনেকটাই বেশি। প্রথম প্রান্তিকে ভারতের পুরো সাধারণ বীমা খাতে যেখানে গড়ে ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, সেখানে এসজিআই একাই অর্জন করেছে ২৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। এই ব্যবসায়িক প্রসারে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে তাদের মোটর বীমা খাত। প্রথম প্রান্তিকে এ খাতে তাদের প্রিমিয়াম ২৫ শতাংশ বেড়ে ১,০৮০ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৮৬৭ কোটি রুপি। অথচ প্রথম প্রান্তিকে পুরো দেশের সাধারণ বীমা শিল্পে মোটর বীমার গড় প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ১৪ শতাংশ।

অনুরূপভাবে, ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বীমায় কোম্পানির প্রিমিয়াম ৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৯ কোটি রুপি থেকে ৪৩ কোটি রুপিতে উন্নীত হয়েছে, যা এ খাতের সার্বিক বাজার প্রবৃদ্ধির হারের সমকক্ষ। অন্যদিকে প্রকৌশল বীমা বা ইঞ্জিনিয়ারিং সেগমেন্টেও প্রিমিয়াম আয় ২২ শতাংশ বেড়ে ৭ কোটি রুপি থেকে ৯ কোটি রুপিতে উঠেছে।

অবশ্য সব খাতে প্রবৃদ্ধির মুখ দেখেনি প্রতিষ্ঠানটি। বেশ কয়েকটি খাতে প্রিমিয়াম আয়ে ছন্দপতন ঘটেছ। বিশেষ করে অগ্নি বীমা খাতে বড় ধস নেমেছে; যেখানে প্রিমিয়াম আয় ৪৪ শতাংশ কমে ৩৫ কোটি রুপি থেকে ২০ কোটি রুপিতে নেমে এসেছে। একই সময়ে অন্যান্য বিবিধ বীমা খাত থেকেও প্রিমিয়াম আয় ৭ শতাংশ কমে ১৮ কোটি রুপি থেকে ১৭ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে।

ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে মাঠপর্যায়ের শারীরিক উপস্থিতি এবং আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির সমন্বয়ে গঠিত ‘ফিজিক্যাল’ মডেলকে কাজে লাগিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। চলতি প্রান্তিকে তারা নতুন ৫,১৭৬ জন আর্থিক উপদেষ্টা (ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার) যুক্ত করেছে, যা গত বছরের প্রথম প্রান্তিকের চেয়ে ৮ শতাংশ বেশি। এর ফলে বর্তমানে এসজিআইয়ের মোট আর্থিক উপদেষ্টার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,১০,১০২ জনে। কোম্পানির শাখা কার্যালয়ের সংখ্যাও গত বছরের ২৭৯টি থেকে বেড়ে ২৯১টিতে উন্নীত হয়েছে। জুন ২০২৬ পর্যন্ত কোম্পানির সক্রিয় পলিসির সংখ্যা আগের বছরের ৬৮ লাখ থেকে বেড়ে ৭২ লাখে দাঁড়িয়েছে। তা ছাড়া বীমা খাতের আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী সলভেন্সি রেশিও বা আর্থিক সক্ষমতার অনুপাত যেখানে সর্বনিম্ন ১.৫০ থাকা আবশ্যক, সেখানে শ্রীরাম জেনারেলের সলভেন্সি রেশিও রয়েছে ৩.০২ পয়েন্টে, যা কোম্পানির সুদৃঢ় মূলধন ও আর্থিক স্থায়িত্বের পরিচয় দেয়।

প্রথম প্রান্তিকের এই ফলাফল প্রসঙ্গে শ্রীরাম জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অনিল আগরওয়াল জানান, আন্ডাররাইটিং নীতিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ঝুঁকি মূল্যায়নে সতর্কতা অবলম্বন করার কারণেই তারা দেশের সামগ্রিক বীমা বাজারকে ছাড়িয়ে যেতে পেরেছেন। গ্রাহকদের দ্রুত ও ঝঞ্ঝাটমুক্ত উপায়ে দাবি নিষ্পত্তি নিশ্চিত করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। ২০৩০ অর্থ বছরের মধ্যে আর্থিক উপদেষ্টার বহর বাড়িয়ে ২ লাখে উন্নীত করা এবং বিশেষ করে স্বাস্থ্য বীমা খাতে নিজেদের অবস্থান বিস্তৃত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে তাঁরা কাজ করছেন।

মন্তব্য করুন