গ্রাহকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিমা খাতের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশজুড়ে শতকোটি টাকার বিমা দাবির চেক বিতরণ করেছে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি। বিভিন্ন অঞ্চলে আয়োজিত পৃথক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রাহকদের প্রাপ্য অর্থ হস্তান্তর করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গত ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এসব চেক বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, গাজীপুর, নবাবগঞ্জ, বগুড়া, রংপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, নড়াইল, শরীয়তপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী ও ভোলাসহ বিভিন্ন এলাকায়ও এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম রিংকু এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বি এম ইউসুফ আলী। তাঁরা গ্রাহকদের হাতে বিমা দাবির চেক তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম রিংকু বলেন, সততা, পরিশ্রম ও পেশাদারত্বের মাধ্যমে গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জন করতে হবে। বিমার দাবি যথাযথভাবে এবং দ্রুত নিষ্পত্তি করার পাশাপাশি সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে পপুলার লাইফ দেশের বিমা খাতে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বি এম ইউসুফ আলী বলেন, অনিশ্চয়তার সময়ে আর্থিক সুরক্ষা দিতে বিমা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গ্রাহকদের দাবি নিষ্পত্তিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। দেশজুড়ে চেক বিতরণের এ উদ্যোগ গ্রাহকদের প্রতি প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, বিমা পলিসি গ্রহণের সময় যে আর্থিক সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, দাবি উত্থাপনের পর তা যথাযথভাবে পূরণ করা জরুরি। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ করতে পারলে বিমা প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ে। প্রয়োজনের সময়ে গ্রাহকদের পাশে থাকা এবং তাঁদের প্রাপ্য অর্থ নির্ধারিত সময়ে বুঝিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সেবার মান উন্নয়নে পপুলার লাইফ কাজ করছে।
বাংলাদেশের বিমা খাতের সম্প্রসারণ ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে গ্রাহকদের আস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো ব্যক্তি বিমা পলিসি গ্রহণের সময় ভবিষ্যতের আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সুরক্ষার প্রত্যাশা করেন। সেই প্রত্যাশা বাস্তবে পূরণ করা গেলে বিমার কার্যকারিতা সম্পর্কে মানুষের ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। অন্যদিকে, দাবি নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা, জটিল প্রক্রিয়া কিংবা প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাব গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে জীবনবিমার অর্থ অনেক সময় পরিবারের সঞ্চয়, সন্তানের পড়াশোনার ব্যয়, চিকিৎসা কিংবা জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর সঙ্গে যুক্ত থাকে। পরিবারের উপার্জনক্ষম কোনো সদস্যের মৃত্যু বা অন্য কোনো বিমাকৃত ঘটনা ঘটলে পলিসির শর্ত অনুযায়ী প্রাপ্য অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হয়ে উঠতে পারে। তাই দাবি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে গ্রাহকদের স্পষ্ট ধারণা দেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ করা বিমা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শুধু চেক বিতরণের আয়োজন করাই নয়, সব যোগ্য দাবির ন্যায্য নিষ্পত্তি, গ্রাহকদের অভিযোগ কার্যকরভাবে সমাধান এবং সেবাসংক্রান্ত তথ্য সহজে পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও এ খাতের প্রতি আস্থা বাড়াতে সহায়ক। বিমা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা, সুশাসন এবং গ্রাহকসেবার মানও দীর্ঘমেয়াদে এই আস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।
পপুলার লাইফ জানিয়েছে, দেশব্যাপী দাবি নিষ্পত্তি কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রাহকসেবার প্রতি তাদের অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিয়মিত ও যথাসময়ে বিমার পাওনা পরিশোধের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে গ্রাহকদের আস্থা আরও দৃঢ় হবে এবং দেশের বিমা খাতের উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে প্রতিষ্ঠানটি মনে করে।
চেক বিতরণ কর্মসূচিতে পপুলার লাইফের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক বি এম শওকত আলী ও মোস্তফা হেলাল করিব, জ্যেষ্ঠ উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মতাহার হোসেন এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামাল হোসেন মহসিন ও মোহাম্মদ খলিলুর রহমান সিকদারসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অংশগ্রহণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্রাহকদের হাতে বিমা দাবির অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
দেশজুড়ে এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাহকদের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। বিমা খাতে মানুষের আস্থা টেকসই করতে এ ধরনের কার্যক্রমের পাশাপাশি দাবি নিষ্পত্তির নিয়মিত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, সময়ানুবর্তিতা এবং জবাবদিহি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
