বিনিয়োগ ও বীমা ব্যবসায় বাজিমাৎ, হানহোয়া লাইফের মুনাফায় প্রবৃদ্ধি ৯৬%

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম সারির বীমা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হানহোয়া লাইফ ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ব্যবসায়িক সাফল্যে বড় ধরনের চমক দেখিয়েছে। মূলত বীমা খাত থেকে বাড়তি আয় এবং শেয়ার বাজার ও সম্পত্তি থেকে পাওয়া চড়া রিটার্নের ওপর ভর করে কোম্পানিটির মুনাফায় বিপুল লাফ দেখা গেছে। প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিমা প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত নিট আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৪ কোটি ৯ লাখ মার্কিন ডলারে (৯০ হাজার ৫০০ কোটি কোরিয়ান ওন) পৌঁছেছে।

এককভাবে হানহোয়া লাইফের নিজস্ব বা ‘স্ট্যান্ডঅ্যালোন’ নিট আয়ের হিসাবটি আরও বেশি ঈর্ষণীয়। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির একক নিট মুনাফা ১৮৩.৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬ কোটি ১১ লাখ ডলারে (৫১ হাজার কোটি ওন)। ব্যবসায়িক খাত বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ চুক্তিগুলোর সুবিধাজনক পুনর্মূল্যায়নের ফলে বীমা কার্যক্রম থেকে পাওয়া পরিচালন আয়ের পরিমাণ ৬২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০ কোটি ১৮ লাখ ডলারে (২৮ হাজার ৫০০ কোটি ওন) গিয়ে ঠেকেছে।

তবে সামগ্রিক প্রতিবেদনে সবচেয়ে বেশি আলো ছড়িয়েছে কোম্পানিটির বিনিয়োগ কৌশল। বিনিয়োগ করা সম্পত্তি পুনর্মূল্যায়ন ও তা বেচাকেনা থেকে পাওয়া অর্থ আগের বছরের ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার থেকে কয়েক গুণ বেড়ে এবার ২৫ কোটি ১৪ লাখ ডলারে (৩৫ হাজার ৫০০ কোটি ওন) দাঁড়িয়েছে। যদিও বীমা দাবি মেটানো ও পরিচালন খরচের তারতম্যের কারণে ১০ কোটি ৪৮ লাখ ডলারের (১৪ হাজার ৮০০ কোটি ওন) কিছুটা সমন্বয়জনিত ঘাটতি গুণতে হয়েছে, তবুও মোট আয়ের গতি কমেনি।

ভবিষ্যতের ব্যবসায়ের গতিপথ ও সম্ভাব্য মুনাফার সূচক হিসেবে বিবেচিত ‘নিউ বিজনেস কন্ট্রাকচুয়াল সার্ভিস মার্জিন’ (সিএসএম) ৪০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯২ কোটি ৬ লাখ ডলারে (১ লাখ ৩০ হাজার কোটি ওন) উঠেছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গ্রাহকদের দীর্ঘমেয়াদে কিস্তি দেওয়ার সুবিধাযুক্ত ‘হোল-লাইফ’ বা আজীবন বীমা পণ্যের দিকে বেশি মনোযোগ দেয় হানহোয়া লাইফ। নতুন ব্যবসায়িক মার্জিনের প্রায় ৪৯ শতাংশই এসেছে এই লাভজনক প্রিমিয়াম প্রকল্পগুলো থেকে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি বীমা মূলধন কাঠামো বা ‘কে-আইসিএস’ (K-ICS) সূচকে হানহোয়া লাইফের মূলধন স্থায়িত্বের দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে তাদের কে-আইসিএস অনুপাত দাঁড়ায় ১৬৭ শতাংশে, যা চলতি বছরের শুরুর চেয়ে ৯.৫ শতাংশীয় পয়েন্ট এবং শেষ প্রান্তিকের চেয়ে ৪.৯ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। বর্তমানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত মূলধন চাহিদার তুলনায় তাদের কাছে সুরক্ষার পরিমাণ বেশ সন্তোষজনক।

প্রতিষ্ঠানটির মোট আর্থিক ও মূলধন ব্যবস্থার তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:

সূচক ও বিবরণপরিমাণ (মার্কিন ডলার)পরিমাণ (কোরিয়ান ওন)
সমন্বিত নিট আয়৬৪ কোটি ৯ লাখ ডলার৯০ হাজার ৫০০ কোটি ওন
একক (স্ট্যান্ডঅ্যালোন) নিট আয়৩৬ কোটি ১১ লাখ ডলার৫১ হাজার কোটি ওন
বীমা খাতের পরিচালন মুনাফা২০ কোটি ১৮ লাখ ডলার২৮ হাজার ৫০০ কোটি ওন
বিনিয়োগ খাত থেকে আয়২৫ কোটি ১৪ লাখ ডলার৩৫ হাজার ৫০০ কোটি ওন
দাবি ও খরচজনিত বৈষম্য (ঘাটতি)(-) ১০ কোটি ৪৮ লাখ ডলার(-) ১৪ হাজার ৮০০ কোটি ওন
নতুন ব্যবসায়িক মার্জিন (CSM)৯২ কোটি ৬ লাখ ডলার১ লাখ ৩০ হাজার কোটি ওন
উপলব্ধ মূলধন (Available Capital)১ হাজার ৭৯ কোটি ডলার২৫ লাখ ২১ হাজার ৩০০ কোটি ওন
প্রয়োজনীয় মূলধন (Required Capital)১০ কোটি ৭ লাখ ডলার১৫ লাখ ১০ হাজার কোটি ওন
নিয়ন্ত্রক নিয়মের ধাক্কা সামলানো সংক্রান্ত ব্যয়১৭ কোটি ডলার২৪ হাজার কোটি ওন
বর্তমান K-ICS অনুপাত১৬৭%১৬৭%

হানহোয়া লাইফের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা ২০২৬ সালের শেষে মোট কে-আইসিএস অনুপাত ১৬৫ শতাংশ এবং মূলধন অনুপাত ৬০ শতাংশের ওপরে ধরে রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক ঋণমান মূল্যায়ন সংস্থা ‘ক্রেডিটসাইটস’ এক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, সরকারের কঠোর বিধিমালার দরুন আসা ১৭ কোটি ডলারের (২৪ হাজার কোটি ওন) ধাক্কা হানহোয়া লাইফ সফলভাবে সামলে নিয়েছে। ২০২৭ সালে দেশে বিমা আইনের আরও কিছু নিয়ম পরিবর্তন হওয়ার কথা রয়েছে, যা মাথায় রেখে কোম্পানিটি নিজেদের বিনিয়োগ ও প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করছে।

মন্তব্য করুন