আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এবং মূলধনের ঘাটতি মোকাবিলা করতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে চীন সরকার। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌথভাবে ৫৪ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করার ঘোষণা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অর্থনীতিকে গতিশীল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বীমা খাতের সুরক্ষায় বড় অঙ্কের এই তহবিল থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অর্থ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে দেশের বৃহত্তম জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান চায়না লাইফ ইন্স্যুরেন্স গ্রুপ পাচ্ছে ৩৫ বিলিয়ন ইউয়ান বা প্রায় ৫.২ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া চায়না তাইপিং ইন্স্যুরেন্স গ্রুপ ৭ বিলিয়ন ইউয়ান এবং চায়না এক্সপোর্ট অ্যান্ড ক্রেডিট ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন মূলধন বাড়াতে ১০ বিলিয়ন ইউয়ান পাচ্ছে। পিপলস ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি অব চায়না অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ১৫ বিলিয়ন ইউয়ান পর্যন্ত তোলার পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি চায়না রেইনস্যুরেন্স গ্রুপও ৩ বিলিয়ন ইউয়ান মূলধন সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে কম সুদের হারের কারণে বীমা খাতের মুনাফা কিছুটা কমেছে। অনেক ছোট ও মাঝারি আকারের বীমা প্রতিষ্ঠানের সলভেন্সি রেশিও বা ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি এই আর্থিক সহায়তা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঝুঁকি মোকাবিলা করতে এবং বাস্তব অর্থনীতিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সাহায্য করবে।
বীমা খাতের পাশাপাশি দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোও তাদের মূলধন বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে বার্ষিক সংসদীয় বৈঠকে এই পরিকল্পনার রূপরেখা দেওয়া হয়েছিল। এই উদ্যোগের আওতায় ব্যাংকগুলো মোট ২৯০ বিলিয়ন ইউয়ান মূলধন সহায়তা পেতে চলেছে। এর মধ্যে এগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়না এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়নার মতো শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলো যথাক্রমে ১৬০ বিলিয়ন ইউয়ান ও ১০০ বিলিয়ন ইউয়ান পর্যন্ত অর্থ সংগ্রহ করবে। অর্থ মন্ত্রণালয় এবং চীন ন্যাশনাল টোবাকো কর্পোরেশনের কাছে এ-শেয়ার প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে এই মূলধন সংগ্রহ করা হবে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংগৃহীত এই পুরো অর্থ মূল টায়ার-ওয়ান মূলধন বাড়াতে ব্যবহার করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বজায় রাখা, কারণ শ্লথ ঋণ চাহিদার কারণে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই অর্থনীতির ব্যাংকিং খাতের মুনাফায় চাপ তৈরি হয়েছে। সরকারি এই বড় অংকের মূলধন ইনজেকশন আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
