ভারতের আসাম রাজ্যে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে বিপাকে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। এই চরম মানবিক ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিমা গ্রাহক এবং তাদের স্বজনদের পাশে দাঁড়াতে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি জীবন বিমা প্রতিষ্ঠান ‘কানারা এইচএসবিসি লাইফ ইন্স্যুরেন্স’। দুর্যোগকবলিত এলাকার মানুষের কাছে দ্রুত আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দিতে নিজেদের বিমা দাবি নিষ্পত্তির সাধারণ নিয়মকানুন এক ধাক্কায় অনেকটাই সহজ ও দ্রুততর করার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
আসামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নদীগুলোর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি প্রাণহানির খবরও পাওয়া গেছে। এমন এক সংকটময় পরিস্থিতিতে যেসব পরিবার প্রিয়জনকে হারিয়েছেন কিংবা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তাদের পক্ষে সাধারণ সময়ের মতো জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি দাপ্তরিক কাগজপত্র যোগাড় করা প্রায় অসম্ভব। এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই কানারা এইচএসবিসি লাইফ বিমা দাবি প্রক্রিয়াকরণে অযথা বিলম্ব না করে জরুরি ভিত্তিতে অর্থ ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমা দাবির প্রক্রিয়াটি যাতে দ্রুত শেষ হয়, সেজন্য আগের বহু শর্ত শিথিল করা হয়েছে। এখন অল্প কিছু জরুরি দলিল জমা দিলেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সরাসরি বিমাকারীর মনোনীত ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। দাবি আবেদনের জন্য মূল প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:
আবেদনপত্র: সঠিকভাবে তথ্য দিয়ে পূরণ করা নির্দিষ্ট বিমা দাবির ফরম।
মৃত্যুর প্রমাণ: স্থানীয় পৌরসভা বা পঞ্চায়েত থেকে ইস্যু করা মৃত্যু সনদ, সরকার ঘোষিত মৃতের নাম সংবলিত তালিকা কিংবা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত অন্য কোনো অফিসিয়াল প্রমাণপত্র।
ছবিসহ পরিচয়পত্র: আবেদনকারীর নাম ও ঠিকানাসংবলিত সরকারি পরিচয়পত্র, যেমন আধার কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড অথবা পাসপোর্ট।
সম্পর্কের প্রমাণপত্র: বিমাকৃত ব্যক্তির সঙ্গে দাবিদারের সঠিক সম্পর্কের প্রমাণ বা আইনগত দলিল (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য: সরাসরি অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দেওয়ার জন্য একটি বাতিল করা চেক (Cancelled Cheque), ব্যাংক স্টেটমেন্ট কিংবা এনইএফটি (NEFT) মানডেট ফরম।
দুর্গত মানুষ যেন সহজে যোগাযোগের সুযোগ পান, সে জন্য কাস্টমার কেয়ার হটলাইন সার্ভিস এবং অনলাইন ডিজিটাল চ্যানেলগুলোকে বিশেষভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আসামের বাসিন্দারা সরাসরি কানারা এইচএসবিসি লাইফের কাছের যেকোনো শাখা, হেল্পলাইন নম্বর কিংবা তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে খুব দ্রুত এই সেবার আওতায় আসতে পারবেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর বিপন্ন মানুষের ঘুরে দাঁড়াতে এবং জীবনযাত্রায় স্থায়িত্ব ফেরাতে বিমা খাতের এই দায়িত্বশীল উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।
