কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে ভারতের বীমা খাতে। গ্রাহকসেবা, দাবি নিষ্পত্তি, জালিয়াতি শনাক্তকরণ এবং ঝুঁকি মূল্যায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে এআইয়ের ব্যবহার বিস্তৃত হওয়ায় এর সম্ভাবনার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও নীতিগত ঝুঁকিও গুরুত্ব পাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বীমা খাতে এআই ব্যবহারের প্রভাব মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্স্যুরেন্স রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া (আইআরডিএআই)।
এ লক্ষ্যে সাত সদস্যের একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেছে সংস্থাটি। দলের চেয়ারম্যান করা হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইআইটি) হায়দরাবাদের পরিচালক অধ্যাপক সন্দীপ কে. শুক্লাকে।
আইআরডিএআই জানিয়েছে, ওয়ার্কিং গ্রুপটি বীমা শিল্পে এআই প্রযুক্তির বর্তমান ব্যবহার, এর সম্ভাব্য সুবিধা, ঝুঁকি এবং চ্যালেঞ্জগুলো পর্যালোচনা করবে। পাশাপাশি বীমা কোম্পানি, পলিসিধারক এবং সামগ্রিক বীমা ব্যবস্থার ওপর প্রযুক্তিটির প্রভাবও মূল্যায়ন করা হবে।
বিশেষভাবে ‘ফ্রন্টিয়ার এআই’ বা অত্যাধুনিক এআই প্রযুক্তির কারণে তৈরি হওয়া নতুন ঝুঁকিগুলো খতিয়ে দেখবে দলটি। স্বয়ংক্রিয় সাইবার হামলা, তথ্য চুরি, অ্যালগরিদমভিত্তিক অপব্যবহার এবং গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষার মতো বিষয়গুলো তাদের পর্যালোচনার আওতায় থাকবে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কেও সুপারিশ দেওয়া হবে।
ওয়ার্কিং গ্রুপটি বীমা খাতে এআই ব্যবহারের বর্তমান অবস্থা, প্রযুক্তিটির গ্রহণযোগ্যতা, বাস্তবায়নের মাত্রা এবং বিদ্যমান পরিচালন কাঠামো পর্যালোচনা করবে। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলো যে এআইভিত্তিক ব্যবস্থা ব্যবহার করছে, সেগুলোর কাঠামোগত মূল্যায়নও করা হবে।
এ ছাড়া বীমা কোম্পানিগুলোর এআইনির্ভর ব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা যাচাইয়ে শিল্পব্যাপী ‘স্ট্রেস টেস্ট’ প্রয়োজন কি না, তাও পরীক্ষা করে দেখা হবে। সম্ভাব্য সংকট বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এসব প্রযুক্তি কতটা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, সেটিও মূল্যায়নের অংশ হবে।
পর্যালোচনার ভিত্তিতে দলটি একটি এআই গভর্ন্যান্স কাঠামো প্রস্তাব করবে। এর লক্ষ্য হবে বীমা খাতে এআইয়ের নৈতিক, স্বচ্ছ এবং ব্যাখ্যাযোগ্য ব্যবহার নিশ্চিত করা। প্রস্তাবিত কাঠামোতে দাবি ব্যবস্থাপনা, জালিয়াতি প্রতিরোধ, ঝুঁকি বিশ্লেষণ, গ্রাহক তথ্য সুরক্ষা এবং স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তি বীমা খাতের দক্ষতা ও সেবার মান বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে যথাযথ তদারকি ছাড়া এর ব্যবহার নতুন ধরনের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। সে কারণে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গ্রাহক সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করতেই আইআরডিএআইয়ের এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
