ভারতের জীবন বীমা বাজারে দীর্ঘ ২৩ বছরের অংশীদারিত্বের অবসান ঘটিয়ে সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডাবর ইনভেস্ট কর্পোরেশনের (Dabur Invest Corp) সম্পূর্ণ শেয়ার কিনে নিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বীমা জায়ান্ট আভিভা (Aviva)। ডাবরের হাতে থাকা বাকি ২৬ শতাংশ শেয়ার কিনে নেওয়ার মাধ্যমে এখন আভিভা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ইন্ডিয়া লিমিটেডের শতভাগ নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে এই ব্রিটিশ বহুজাতিক কোম্পানির হাতে। এই অধিগ্রহণের ফলে ভারতীয় বাজারে স্বাধীনভাবে কৌশলগত পরিকল্পনা সাজানো ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আভিভা এখন একক ক্ষমতা লাভ করল।
দুই দশকের অংশীদারিত্বের অবসান
২০০১ সালে ভারতে আভিভা ও ডাবরের যৌথ পথচলা শুরু হয়েছিল। তৎকালীন ভারতীয় আইনি বাধ্যবাধকতা ও বিদেশি বিনিয়োগের সীমার কারণে আভিভাকে ডাবরের মতো একটি শক্তিশালী স্থানীয় অংশীদারের ওপর ভরসা করতে হয়েছিল। তবে দীর্ঘ ২৩ বছরের এই সফল যাত্রার পর পুরো কোম্পানিটির নিয়ন্ত্রণ এখন এককভাবে আভিভার হাতে ন্যস্ত হলো। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পরিবর্তনের ফলে আভিভা ভারতের ক্রমবর্ধমান ও সম্ভাবনাময় বীমা খাতে তাদের বৈশ্বিক মানসম্পন্ন প্রযুক্তি ও যুগোপযোগী সেবা আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে পারবে।
এফডিআই নীতিমালায় বদল ও ধারাবাহিক শেয়ার বৃদ্ধি
ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) সংক্রান্ত আইনি সংস্কারের বড় সুবিধা পেয়েছে আভিভা।
আইনের নমনীয়তা: সম্প্রতি ভারত সরকার তাদের বীমা খাতে বিদেশি বিনিয়োগের শর্তাবলী সহজ করে শতভাগ (১০০%) মালিকানা রাখার অনুমতি দেয়। এর ফলে বিদেশি মূল প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্থানীয় কোম্পানির পুরো মালিকানা নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার পথ সুগম হয়।
ধারাবাহিক বিনিয়োগ: ভারতের নীতিমালার পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আভিভা বিগত বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে তাদের শেয়ার বাড়িয়ে আসছিল। ২০১৬ এবং ২০২২ সালে এফডিআই সীমার পরিবর্তনের সময়েও কোম্পানিটি নিজেদের অংশীদারিত্ব বাড়িয়ে নেয়। সর্বশেষ ২৬ শতাংশ শেয়ার ক্রয়ের মধ্য দিয়ে সেই ধারাবাহিক প্রক্রিয়াটি শতভাগ মালিকানায় গিয়ে পূর্ণতা পেল।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আর্থিক প্রভাব
এই চুক্তিটি সম্পন্ন করতে ঠিক কত টাকার লেনদেন হয়েছে বা ডাবর কত মূল্যে তাদের শেয়ার বিক্রি করেছে, সে সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট আর্থিক বিবরণী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে আভিভা গ্রুপের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভারতের এই বীমা কোম্পানির বাকি শেয়ার কেনার জন্য যে পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে, তা তাদের বৈশ্বিক সামগ্রিক আর্থিক কাঠামোর ওপর দৃশ্যত কোনো বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না।
একক মালিকানা পাওয়ায় আভিভা এখন গ্রাহকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় ও যুগোপযোগী জীবন বীমা পলিসি নিয়ে আসতে পারবে। বিশেষ করে ডিজিটাল সেবা ও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতীয় গ্রাহকদের দোরগোড়ায় আধুনিক বীমা সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং ভারতের প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও জোরদার করাই এখন আভিভার মূল লক্ষ্য।
