ভারতে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, সেই তুলনায় অবসরকালীন সুরক্ষার জন্য নির্ভরযোগ্য কোনো সঞ্চয় বা পেনশন ব্যবস্থার পরিধি এখনো বেশ সীমিত। এই সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে সামনে রেখে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য একটি বিশেষ সময়োপযোগী সঞ্চয় প্রকল্প নিয়ে এসেছে আন্তর্জাতিক বিমা প্রতিষ্ঠান জেনারেলি সেন্ট্রাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ‘সোনহেরা পেনশন প্ল্যান’ নামের এই জীবন বিমা পণ্যটি মূলত একটি পার্টিসিপেটিং ও নন-লিঙ্কড স্কিম। এটি একদিকে যেমন পলিসিগ্রাহকদের অবসরের পর একটি নিশ্চিত বড় অঙ্কের তহবিল দেবে, ঠিক অন্যদিকে জীবন বিমার কবচ দিয়ে তাঁদের পরিবারের ভবিষ্যৎকেও সুরক্ষিত রাখবে।
বিমা খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে এই ধরনের কার্যকর পেনশন স্কিমের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। প্রাপ্ত পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালে ভারতের মোট জনসংখ্যার ১০.৫ শতাংশ প্রবীণ নাগরিকের তালিকায় ছিল। তবে এই চিত্র দ্রুত পাল্টাচ্ছে; ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০.৮ শতাংশই প্রবীণ কোটায় চলে যাবে। অর্থাৎ, আগামী দিনগুলোতে দেশটিতে বয়োবৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণ হবে।
জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে গেলেও প্রথাগত সঞ্চয় বা পেনশনের আওতায় আসার ক্ষেত্রে ভারত এখনও অনেক পিছিয়ে। বর্তমানে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ১৭ শতাংশের মতো অর্থ পেনশন খাতের সম্পদে রয়েছে। অথচ উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানে এই হার প্রায় ৮০ শতাংশের কাছাকাছি। এই বিশাল তারতম্যই প্রমাণ করে যে, গড় ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে পরিকল্পিত অবসর যাপনের গোছানো প্রস্তুতি কতটা কম। এই ঘাটতি দূর করে সাধারণ মানুষকে সঞ্চয়মুখী করতেই জেনারেলি এই উদ্যোগ নিয়েছে।
গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে এই পেনশন প্ল্যানে বেশ কিছু সুবিধাজনক ও নমনীয় শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। বিমা চালুর প্রথম বছর থেকেই পলিসিতে বোনাস যোগ হতে শুরু করবে, যা গ্রাহকের মুনাফাকে বড় করবে। গ্রাহকরা তাদের বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী ৫ বছর থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪০ বছর মেয়াদি পলিসি বেছে নিতে পারবেন। প্রিমিয়াম পরিশোধের জন্য এককালীন (সিঙ্গেল), নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত (লিমিটেড) কিংবা নিয়মিত মাসিক বা বার্ষিক (রেগুলার) কিস্তির বিকল্প রাখা হয়েছে। এছাড়া হুট করে কোনো চিকিৎসার খরচ বা জরুরি আর্থিক সংকট দেখা দিলে পলিসির মেয়াদ থাকাকালীন জমানো টাকা থেকে আংশিক অর্থ তোলার ছাড়ও মিলবে। গ্রাহক চাইলে নিজের সুরক্ষার পরিধি বাড়াতে এর সঙ্গে বাড়তি রাইডার যুক্ত করতে পারবেন।
পলিসির মেয়াদ সফলভাবে পূর্ণ হওয়ার পর (ভেস্টিং), গ্রাহক তাঁর মূল বিমাকৃত অর্থ এবং মোট অর্জিত বোনাস একসাথে পাবেন। অথবা তাঁর জমা দেওয়া মোট প্রিমিয়ামের ১০৫ শতাংশের মধ্যে যে অঙ্কের টাকাটি বেশি হবে, সেটি তিনি রিটার্ন হিসেবে বুঝে পাবেন। অন্যদিকে, পলিসি সচল থাকা অবস্থায় দুর্ভাগ্যবশত গ্রাহকের মৃত্যু হলে, তাঁর মনোনীত ব্যক্তি বা নমিনি বিমাকৃত মৃত্যুর সুবিধা ও বোনাস পাবেন, যা কোনো অবস্থাতেই পরিশোধিত মোট প্রিমিয়ামের ১০৫ শতাংশের কম হবে না। প্রবীণ বয়সের অনিশ্চয়তা কাটাতে এই পলিসিটি মধ্যবিত্তদের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।
