দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি সাধারণ বিমা প্রতিষ্ঠান ইস্টল্যান্ড ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ৩৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) সম্প্রতি ডিজিটাল বা ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সাধারণ সভায় কোম্পানির বিনিয়োগকারী তথা সাধারণ পাবলিক শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০২৫ সালের সমাপ্ত বছরের আর্থিক হিসাবের ওপর ভিত্তি করে ১০ শতাংশ নগদ (Cash) লভ্যাংশ সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই লভ্যাংশ অনুমোদনের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
কোম্পানির চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বার্ষিক সাধারণ সভায় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ সেলিমসহ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পরিচালক এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডার। সভায় উপস্থিত সকলে সর্বসম্মতিক্রমে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন ও নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী (Audited Financial Statements) অনুমোদন করেন। এর পাশাপাশি বর্তমান ২০২৬ সালের আর্থিক বিবরণী নিরীক্ষার জন্য নিরীক্ষক (Auditors) এবং করপোরেট গভর্ন্যান্স কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষক নিয়োগ ও তাদের পারিশ্রমিক নির্ধারণের বিষয়টিও সাধারণ সভায় অনুমোদিত হয়।
বার্ষিক সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখার সময় কোম্পানির সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী চলমান অর্থনৈতিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিভিন্ন দেশে যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এক ধরনের সংকোচন তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক ও দেশীয় বাজারের এই প্রতিকূল ব্যবসায়িক পরিস্থিতির মধ্যেও ইস্টল্যান্ড ইনস্যুরেন্স তার ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। তারই ফলশ্রুতিতে ২০২৫ সমাপ্ত বছরে কোম্পানিটি ৯৬ কোটি ৯০ লাখ টাকার বেশি প্রিমিয়াম আয় করতে পেরেছে।
বিমা খাতের মূল চালিকাশক্তি হলো গ্রাহকের আস্থা ও সঠিক সময়ে বিমা দাবি পরিশোধ করা। এই বিষয়ে আলোকপাত করে চেয়ারম্যান সভায় আরও জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কোম্পানিটি গ্রাহকদের মোট ৪৩৬ কোটি ৪০ লাখ টাকার বিমা দাবি (Insurance Claim) পরিশোধ করেছে। বৈশ্বিক ও দেশীয় সংকটের এই কঠিন সময়েও বিনিয়োগকারীদের উপযুক্ত লভ্যাংশ দিতে পারা এবং গ্রাহকদের বিমা দাবি নিয়মিত পরিশোধ করতে পারাকে কোম্পানির দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট আর্থিক খাতের বিশ্লেষকেরা।
