উচ্চবিত্তদের সম্পদ সুরক্ষায় সান লাইফের নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘প্রাইভেট ওয়েলথ’

বিশ্বজুড়ে বিত্তশালী পরিবারগুলোর সম্পদমূল্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে তা নিরাপদে স্থানান্তরের সুযোগ দিতে বিশেষ এক প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে আন্তর্জাতিক আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সান লাইফ ফাইন্যান্সিয়াল ইনকর্পোরেটেড। ‘সান লাইফ প্রাইভেট ওয়েলথ’ নামের এই প্ল্যাটফর্মটি মূলত উচ্চ সম্পদশালী (এইচএনডব্লিউ) এবং অতি-উচ্চ সম্পদশালী (ইউএইচএনডব্লিউ) গ্রাহকদের উন্নত সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে উন্মোচিত হয়েছে। বিত্তশালীদের দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক লক্ষ্য পূরণ, সম্পদ বৃদ্ধি এবং পারিবারিক উত্তরাধিকার সুসংহত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ মিলবে এতে।

সাম্প্রতিক সময়ে পারিবারিক সম্পদ বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক জটিলতা ছাড়া তা পরবর্তী প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। গ্রাহকদের সুবিধার্থে সান লাইফ একটি সমন্বিত কাজের পরিবেশ তৈরি করেছে। এখানে একক ইনটেক সুবিধা, আধুনিক আন্ডাররাইটিং প্রসেস, সহজীকৃত ডকুমেন্টেশন ও অভিন্ন আবেদন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য ২৪ ঘণ্টা সার্বক্ষণিক সাপোর্ট সার্ভিস চালু রাখা হয়েছে, যা জটিল হিসাব-নিকাশ ও পারিবারিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা সহজ করবে।

নতুন এই প্ল্যাটফর্ম চালু নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সান লাইফ প্রাইভেট ওয়েলথের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুজয় ঘোষ। তিনি বলেন, “আমাদের দীর্ঘদিনের তৈরি হওয়া আর্থিক সক্ষমতা, সুনির্দিষ্ট পেশাদারি দক্ষতা এবং স্থানীয় বাজার সম্পর্কে গভীর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এই প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্যই হলো আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মান বজায় রেখে বিত্তশালী গ্রাহকদের কাঙ্ক্ষিত সম্পদ বৃদ্ধি করা, তার স্থায়িত্ব রক্ষা করা এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা নিরাপদে পৌঁছে দিতে সহায়তা প্রদান করা।”

গবেষণাভিত্তিক তথ্য পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়, বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়তে থাকা ধনকুবেরদের বিপুল সম্পদ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যেই সান লাইফের এই উদ্যোগ। ক্যাপজেমিনির ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েলথ রিপোর্ট ২০২৬’-এর তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের সর্বমোট সম্পদের পরিমাণ ৮.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯৮.৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে। বিশেষ করে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে সম্পদের বিকাশ ঘটেছে অবিশ্বাস্য গতিতে—এই অঞ্চলে প্রবৃদ্ধির হার ছিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১০.৫ শতাংশ। ফলে এই অঞ্চলের পরিবারগুলোর জন্য একটি বিশ্বমানের আধুনিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা অবকাঠামোর প্রয়োজন তৈরি হয়েছিল।

এর আগে সান লাইফের নিজস্ব এক জরিপে উঠে আসে যে, এশিয়ার ধনী পরিবারগুলোর বড় একটি অংশ নিজেদের দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। প্রতিবেদনে দেখা যায়, সিঙ্গাপুরের প্রায় ৬৭ শতাংশ এবং হংকংয়ের ৪৪ শতাংশ বিত্তশালী ব্যক্তি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে তাঁদের কষ্টার্জিত সম্পদ সন্তানদের বা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে স্থায়ী নাও হতে পারে। বিত্তশালীদের এই মানসিক উদ্বেগ দূর করতেই সান লাইফ তাঁদের এই বিশেষায়িত প্রাইভেট ওয়েলথ সেবা বাজারের সামনে নিয়ে এসেছে।

মন্তব্য করুন