বাংলাদেশের বীমা খাতের বর্তমান অবস্থা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ নীতিগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণে একটি সমন্বিত গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ এবং ইন্স্যুরেন্স নিউজ বিডি যৌথভাবে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে।
‘Insurance Sector of Bangladesh: Reality, Challenges and Way Forward’ শীর্ষক এই গবেষণায় দেশের বীমা শিল্পের কাঠামো, বিকাশ, কার্যক্রম এবং অর্থনীতিতে এর অবদান বিশ্লেষণ করা হবে। গবেষণায় জীবনবীমা ও সাধারণ বীমা—উভয় খাতকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বীমার প্রসার ও ঘনত্ব, নতুন পণ্য উদ্ভাবন, গ্রাহকদের কাছে সেবা পৌঁছানোর বিভিন্ন মাধ্যম এবং দাবি নিষ্পত্তির পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হবে।
গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে খাতটির প্রশাসনিক ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো বিশ্লেষণ। বীমা প্রতিষ্ঠানের সুশাসন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং বিদ্যমান নীতিগত কাঠামোর বিভিন্ন দিক এতে খতিয়ে দেখা হবে। প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি বা প্রয়োজনীয়তাও গবেষণার আওতায় থাকবে।
গ্রাহকের আস্থা, সেবার মান, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বীমা সম্পর্কে সচেতনতার বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হবে। গবেষণার জন্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক—দুই ধরনের তথ্য ব্যবহার করা হবে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেও বিভিন্ন তথ্য ও মতামত সংগ্রহ করা হবে।
সমঝোতা অনুযায়ী গবেষণার নকশা, পদ্ধতি নির্ধারণ এবং তথ্য বিশ্লেষণের নেতৃত্ব দেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ। গবেষণার একাডেমিক স্বাধীনতা ও সততা বজায় রাখার দায়িত্বও বিভাগের ওপর থাকবে।
অন্যদিকে, ইন্স্যুরেন্স নিউজ বিডি গবেষণার অর্থায়ন ও সহযোগী অংশীদার হিসেবে কাজ করবে। প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় শিল্পসংক্রান্ত তথ্য ও নথি, অনুসন্ধানমূলক উপকরণ এবং খাতভিত্তিক অভিজ্ঞতা সরবরাহ করবে। পাশাপাশি সম্ভব হলে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে যোগাযোগ ও মতবিনিময়েও সহায়তা করবে।
সমঝোতা স্মারকে গবেষণার স্বাধীনতার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইন্স্যুরেন্স নিউজ বিডি তথ্য, শিল্পখাতের অভিজ্ঞতা এবং বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য যাচাইয়ে মতামত দিতে পারলেও গবেষণার বিশ্লেষণ, ফলাফল ও সুপারিশের চূড়ান্ত দায়িত্ব থাকবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের হাতে।
উদ্যোক্তারা মনে করছেন, একাডেমিক গবেষণা ও বীমা শিল্পের বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে সমন্বয় ঘটানোর মাধ্যমে এই উদ্যোগ দেশের বীমা খাত সম্পর্কে আরও সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি করতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় বীমার ভূমিকা কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে গবেষণাটি নীতিনির্ধারণে প্রাসঙ্গিক তথ্য দিতে পারে।
গবেষণার কাজ তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে গবেষণা শেষ হবে। পরে গবেষণার ফলাফল একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হবে। প্রতিবেদনে দেশের বীমা খাতের বর্তমান বাস্তবতা, প্রধান প্রতিবন্ধকতা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সম্ভাব্য নীতিগত দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হবে।
